বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের তরফ থেকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। একটি গোষ্ঠী উৎসবের সময় অশান্তি পাকাতে পারে। তবে তার থেকে বড় কথা সাধারণ মানুষ যে বেশি সচেতন এবং শান্তি প্রিয়। তার প্রমাণ মিলল সোমবার। এ দিন ছিল পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উৎসব। এক মাসব্যাপী রোযার পর ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সমবেত হয়ে একসঙ্গে ঈদের নামায পড়েন। তারপর চলে সৌহার্দ্য বিনিময়ের পালা। মিষ্টি জাতীয় খাওয়া-দাওয়া পালা চলে।
![]() |
ছবি নিজস্ব |
এই উৎসবের সময় একটা শ্রেণির তরফে হিংসার প্ররোচনার আভাস ছিল পুলিশের কাছে। যদিও সব চেষ্টা বানচাল করে জনতা। মালদার মোথাবাড়ি নিয়ে একদিকে যখন বিজেপির তরফে নানান উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ভিনদেশের ছবি এবং ভিডিওকে ব্যবহার করে উত্তেজনা বাড়ানোর পালা, সে সময় সেই মোথাবাড়ির মানুষই একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়ে উদযাপন করেন দিনটি। দেখা যায় সেখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন বিভিন্ন দোকান দিয়েছেন এবং তাদেরকে ক্রেতা মুসলিমরা।
আমাদে প্রতিনিধি জানাচ্ছেন,ঈদ উপলক্ষে মেলা বসেছে বাঙ্গিটোলা ফিল্ডে।গঙ্গা ভাঙনের পর এখানে সবাই এসে বাড়িঘর করেছেন। বিগত
২২ বছর ধরে এই মেলা হয়। দোকান দিয়েছেন সুব্রত বসাক, তপন সাহা, সন্তোষ সাহা, পবিত্র সাহা, অজয় মণ্ডল, সান্ত্বনা সাহা নীলিমা সাহা, মলিন সাহা।অন্যদিকে ক্রেতা রবিউল, আস্তারুল, বুলবুল, মাসুম, বাবুল, আমিরুদ্দিন। কথা বলে জানা গিয়েছে, দোকানদারগুলোর বাড়ি গীতামোড়, পাঁচকরি টোলা, আকন্দবাড়িয়া, গোলক টোলা, অমৃতি। আরএখানে নামায পড়েন পঞ্চায়েত পাড়া, গোসাই হাট, জাহিদ টোলা, ফিল্ড, আব্বাস টোলা, বানু টোলা, ঘাসি টোলা ইত্যাদি গ্রামের লোক।ঈদের মেলায় দোকানদাররা যখন বিক্রিবাটায় ব্যস্ত তার মধ্যেই সৌহার্দ্য বিনিময় করবে সমাজসেবী রবিউল ইসলাম, বুলবুল হোসাইন, দিলনাওয়াজ আলাম, সাদ্দাম হোসেনরা।
এক প্রশ্নের উত্তরে দোকানদার সুব্রত সাহা বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। কাজ না করলে খেতে পাবো না। ওইসব ঝগড়া বিবাদের মধ্যে যেতে চাই না। একই কথা বলছেন শান্তনা। তিনি বলেন, এই ঈদের সময় আমাদের ভালো বিক্রি বাটা হয়। আমরা কারও কোনও কথায় কান দিতে চাই না। আমরা মিলেমিশে থাকতে পছন্দ করি। আর আজ আমাদের দোকানে যেভাবে সবাই এসে কিনেছেন আমরা খুব খুশি।
0 Comments